এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার হিড়িক

৩ আগষ্ট, ২০২৪ ২১:১৫  

শনিবার সন্ধ্যার দিকে ফের রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথগুলো থেকে টাকা তোলার হিড়িক দেখা গেছে। অনেক বুথের সামনেই গ্রাহকদের লাইন ধরে টাকা তুলতে দেখা গেছে। রাত সাড়ে ৮টার দিকেও রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বুথগুলো ছোট-খাটো লাইন দেখা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশ থেকে শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত থেকে অসহযোগ আন্দলনের ডাক দেয়ার পর ফের নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনার শঙ্কায় আগাম সতর্কতা হিসেবে ব্যাংক গ্রাহকরা ব্যাংকের এটিএম বুথ এবং এজেন্ট পয়েন্টগুলো থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন বলে জানাগেছে। কেউ কেউ আবার জানিয়েছেন, মাসের শুরু তো তাই চাপটা একটু বেশি। তবে এসময় ব্যাংকের গ্রাহকদের চোখে মুখে অজানা আতঙ্কের ছাপ দেখা গেছে।

অপরদিকে গ্রাহকদের এমন চাপ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম ও ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ব্যাংকাররা। সেই দুশ্চিন্তার প্রকাশ দেখা গেছে রাজধানীর পল্টন, দিলকুশা, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, মালিবাগ, কাকরাইল, কমলাপুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। এসব এলাকায় সন্ধ্যার পরে অধিকাংশ এটিএম বুথের বুথের শাটার নামানো দেখা গেছে। ঢাকার কাকরাইলের ভিআইপি রোডে, মানিকনগর, কমলাপুরে ফুট ওভারব্রিজ সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং কাওরান বাজারের বুথগুলো থেকেও টাকা তুলতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন।

এসব স্থানে দায়িত্বরত প্রহরীদের সঙ্গে আলাপকালে জানাগেছে, নেটওয়ার্ক জটিলতা এবং টাকা শেষ হওয়ার ঘটনায় বুথগুলোর শাটার নামানো থাকায় গ্রাহকরা পাশ্ববর্তী কোন ব্যাংকের বুথ খোলা কিংবা এজেন্ট পয়েন্টগুলো কেথায় আসছে সে বিষয়ে খোঁজ খবর করছেন। কাউকে কাউকে দেখা গেছে মোবাইলে ‘নেয়ার বাই বুথ’ লিখে গুগল সার্চ করছেন। কেউ কেউ এক বুথ থেকে অন্য বুথে ছোটাছুটির পরেও টাকা তুলতে না পেরে খালি হাতে বাসায় ফিরেছেন।

রাজধানীর মতিঝিল, আগারগাঁও, মহাখালী এলাকায় কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও মিরপুর, বাসাবো, রামপুরা, গুলশান, নিকেতন, বনশ্রী, বসুন্ধরা, মহানগর আবাসিক এলাকাগুলোতে টাকা তোলার চাপ ছিল। অনেকেই নিজের ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা না তুলতে পেরে অন্য বুথ থেকে বাড়তি চার্জ দিয়ে টাকা তুলেছেন।

গ্রাহকরা বলছেন, কারফিউ দেয়ার শুরুতে এবং ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তারা কেবল ব্যাংক নয় এমএফএস থেকেও টাকা তুলতে পারেননি। তাই আগে ভাগেই বাসায় নগদ টাকা তুলে রাখছেন।

এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক বলেন, ব্যাংকিং স্বাভাবিক সময়ে চলবে। ব্যাংকগুলোর ভোল্টসহ সব শাখা-উপশাখায় নিরাপত্তা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আতঙ্কের কিছু নেই। রবিবার থেকে স্বাভাবিক লেনদেন চলবে। ডিজিটাল লেনদেনের স্বার্থে ব্যাংকগুলোর বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশনা আগে থেকেই দেওয়া হয়েছে। এখন গ্রাহক যদি আতঙ্কের কারণে বেশি টাকা তুলেন সেটা নিয়ে কিছু করার নেই। তবে যদি অস্বাভাবিক লেনদেন হয় সে ক্ষেত্রে তো সমস্যা হবে। আর নেটওয়ার্ক জটিলতা নিয়ে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিবো। কেননা এখন নেটওয়ার্কে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।